Home Question Answer 🔥Top Answer উডের ডেসপ্যাচ কি ? What is Wood’s Dispatch in Bengali? উডের ডেসপ্যাচ সুপারিশ গুলি কি কি

🔥Top Answer উডের ডেসপ্যাচ কি ? What is Wood’s Dispatch in Bengali? উডের ডেসপ্যাচ সুপারিশ গুলি কি কি

0
🔥Top Answer উডের ডেসপ্যাচ কি ? What is Wood’s Dispatch in Bengali? উডের ডেসপ্যাচ সুপারিশ গুলি কি কি
wood's dispatch । উডের ডেসপ্যাচ কি

ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় আধুনিকীকরণের জন্য নেওয়া সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি হল উডের ডেসপ্যাচ। তাই উডের ডেসপ্যাচ কি, উডের ডেসপ্যাচ সুপারিশ গুলি কি কি , উডের ডেসপ্যাচ এর দুটি গুরুত্ব কি এই বিষয়ে বিশদে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি বাংলা ভাষায় উডের ডেসপ্যাচ কি, উডের ডেসপ্যাচ সুপারিশ গুলি কি কি , উডের ডেসপ্যাচ এর দুটি গুরুত্ব কি ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর হিসেবে এই লেখাটি পড়ার পর আপনার আর কোনোও আর্টিকেল পড়ার প্রয়োজন হবে না।

উডের ডেসপ্যাচ এর নামকরণ হয়েছে এটির প্রবক্তা স্যার চার্লস উড (Sir Charles Wood) এর নাম অনুসারে। স্যার চার্লস উড ছিলেন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির (British East India Company) বোর্ড অফ কন্ট্রোলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। পরাধীন ভারতবর্ষে ইংরেজি শিক্ষা চালু ও আধুনিক শিক্ষা চালু ও প্রসারের বিষয়ে স্যার চার্লস উড এর গুরুত্ব অপরিসীম।

ভারতবর্ষে আধুনিক শিক্ষা ও সার্বিক শিক্ষার সূচনা স্যার চার্লস উড (Sir Charles Wood) এর সৃষ্ট উডের ডেসপ্যাচ এর মাধ্যমে হয়েছিল। তাই উডের ডেসপ্যাচ কি ও উডের ডেসপ্যাচ সুপারিশ গুলি কি কি আমাদের জন্য জানা অত্যন্ত প্ৰয়োজনীয়।

উডের ডেসপ্যাচ কি ও এর ইতিহাস কি ? What is the History of Wood’s Dispatch

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে উপনিবেশ স্থাপন করার প্রথম ষাট বছর পর্যন্ত ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনের কোনোও চেষ্টা করেনি। কিন্তু তার পর তারা ধীরে ধীরে ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনের চেষ্টা করতে শুরু করে , তবে তা কেবল নিজেদের মুনাফারই জন্য।

ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের পিছনে তিনটি মূল চাপই প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

  • ব্রিটিশ শ্বাসকের চেষ্টা
  • ক্রিস্টান মিশনারীদের আগ্রহ
  • ভারতীয় সমাজ সংস্কারকদের আগ্রহ

তবে ব্রিটিশ ও খ্রিষ্টান মিশনারিদের চেষ্টা কেবলমাত্র তাদের নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের ছিল।

ভারতবর্ষে শ্বসনব্যবস্থা চালাতে গেলে প্রচুর প্রশাসনিক দপ্তর বা অফিস প্রতিষ্ঠা করতে হবে ও সেই অফিস বা দপ্তরগুলিতে অনেক অফিসার ও কর্মচারী নিয়োগ করতে হবে।

এই অবস্থায় ইংল্যান্ড এর শিক্ষিত মানুষদেরই কেবলমাত্র অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হলেও সমস্যা হলো নিচু তলার কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে। কারণ গ্রুপ C এর কেরানি যদি ইংল্যান্ড এর কোনোও ব্যক্তিকে নিয়োগ করা হয় , সেক্ষেত্রে যে পরিমান বেতন ও সুযোগ সুবিধা দিতে হবে তা যথেষ্ট ব্যায়সাপেক্ষ হবে।

এমতাবস্থায় ইংরেজ কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নিলেন ইংরেজি জানা ভারতীয়দেরই কেরানি হিসেবে নিয়োগে করা হবে। তাই তৎকালীন সময়ে ভারতবর্ষে প্রচুর ইংরেজি জানা কেরানির প্রয়োজন হল।

অন্যদিকে ব্রিটিশ ভারতে যদি বিদেশ থেকে অর্থাৎ লন্ডন থেকে ইংরেজি জানা কেরানি বা clerk এদেশ নিয়ে এসে তাকে নিয়োগ করা হয় তাহলে অনেক বেশি মাইনে দিতে হবে। তাই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে ইংরেজি শিক্ষা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল , যা ভারতের জন্য সেই সময় আশীর্বাদ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল।

এই ইংরেজি শিক্ষা তৎকালীন পরাধীন ভারতবর্ষে শুরু করার বিষয়ে স্যার চার্লস উড কয়েকটি সুপারিশ বা প্রস্তাবনা করেছিলেন।

তাই উডের ডেসপ্যাচ কি এ বিষয়ে লিখতে গেলে এটি তৈরী করার কারণ উল্লেখ না করলেই নয়।

✅🔥🔥বিপুল বেসরকারি -সরকারি চাকরির খবর পেতে ক্লিক করুন

মাধ্যমিক পাশে সমস্ত লেটেস্ট সরকারি চাকরির খবর দেখুন
উচ্চমাধ্যমিক পাশে সমস্ত লেটেস্ট সরকারি চাকরির খবর দেখুন
গ্রাজুয়েট/স্নাতক পাশে সমস্ত লেটেস্ট সরকারি চাকরির খবরদেখুন
ইঞ্জিনীরিং পাশে লেটেস্ট সরকারি চাকরির খবর দেখুন
শিক্ষাবিভাগের লেটেস্ট সরকারি চাকরির খবর দেখুন
স্বাস্থ্য বিভাগের লেটেস্ট সরকারি চাকরির খবর দেখুন
GK, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ,পরীক্ষা প্রস্তুতি দেখুন
সমস্ত লেটেস্ট চাকরির খবর দেখুন
বেসরকারি -সরকারি চাকরির খবর । government job news

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পনির বোর্ড অফ কন্ট্রোলের তিনি প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সেই কারণে যখন ইংরেজি শিক্ষা ও ভারতবর্ষে শিক্ষার বিষয়ে প্রস্তাবনার প্রসঙ্গ ওঠে তখন স্যার চার্লস উড তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড ডালহৌসির সামনে ভারতীয়ও শিক্ষা ও ইংরেজি শিক্ষার বিষয়ে কয়েকটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

স্যার চার্লস উড সুপারিশ করেছিলেন যে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি স্থানীয় ভাষা গ্রহণ করবে, উচ্চ বিদ্যালয়গুলি অ্যাংলো-আঞ্চলিক ভাষা গ্রহণ করবে এবং কলেজগুলিতে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার মাধ্যম হবে। এই বিবৃতিটি আনুষ্ঠানিকভাবে উডের ডেসপ্যাচ নামে পরিচিত।

চার্লস উডের ডেসপ্যাচ ম্যাগনাকার্টা নামেও পরিচিত।

পরাধীন ভারতবর্ষে ১৮৫৪ সালে উডের ডেসপ্যাচ কার্যকর করা হয়।

চার্লস উডের ডেসপ্যাচ নীতি কি ও এর বিবৃতি | Proposals of Wood’s Dispatch | উডের ডেসপ্যাচ সুপারিশ গুলি কি কি । উডের নির্দেশনামা কি

উডের ডেসপ্যাচ কি তা জানতে হলে উডের ডেসপ্যাচ এর নীতিগুলি বা উডের ডেসপ্যাচ সুপারিশ গুলি কি কি তা বিশদে জানতেই হবে। নিচে উডের ডেসপ্যাচ নীতি কি বা উডের ডেসপ্যাচ সুপারিশ গুলি কি কি তা বিশদে আলোচনা করা হল-

  • ১. নতুনকরে দেশে ইংরেজি শিক্ষা চালু হলে বিপুল পরিমান অসামরিক কর্মচারী দেশে চালু হবে , যাদের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পনি সার্বিকভাবে বিশ্বাস করতে পারবে।
  • ২. প্রতিটি প্রদেশে (বর্তমানে যাদের বলে রাজ্য) শিক্ষা বিভাগ স্থাপন করতে হবে।
  • ৩. বড় শহরগুলিতে বর্তমানে যাদের মেট্রো শহর বলে, উদাহরণস্বরূপ কলকাতা , বোম্বে , মাদ্রাজ ইত্যাদিতে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরী করতে হবে।
  • ৪. প্রতিটি ডিস্ট্রিক্ট এ অন্তত একটি করে সরকারি বিদ্যালয় খুলতে হবে।
  • ৫. অধিভুক্ত বেসরকারি বিদ্যালয়গুলিকে (Affiliated private school) অনুদান দিতে হবে।
  • ৬. ভারতীয় আদিবাসীদের তাদের মাতৃভাষায় প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত।
  • ৭. প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত একটি পদ্ধতিগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
  • ৮. সরকারের উচিত স্ত্রী -শিক্ষাকে অনেক বেশি করে প্রচার করা।
  • ৯. প্রাথমিক স্টোরে শিক্ষার মাধ্যম হবে আঞ্চলিক (অর্থাৎ বাংলাভাষীদের জন্য বাংলা , ইত্যাদি ) কিন্তু উচ্চস্তরে শিক্ষার মাধ্যম হবে ইংরেজি।
  • ১০. সকল স্তরের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের উপর আরো বেশি করে জোর দিতে হবে।

✌️ 🔥 বিঃ দ্রঃ : আপনি যদি সমস্ত চাকরির নোটিশ সবার আগে পেতে চান, প্রতিদিন মকটেস্ট ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পেতে চান তাহলে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল-এ এখনই যুক্ত হয়ে যান।

Join Our  Telegram Channel CLICK HERE
Notification updateCLICK HERE
সমস্ত চাকরির খবর ও প্রস্তুতি এক ক্লিকেই

উডের ডেসপ্যাচ কি ম্যাগনাকার্টা বলা হয় কেন

উডের ডেসপ্যাচ কে ম্যাগনাকার্টা বলা হয় কেন তা জানার আগে ইটা জানা জরুরি যে “ম্যাগনাকার্টা ” বিষয় টা কি। ম্যাগনাকার্টা আসলে একটি ঐতিহাসিক দলিল। এখানে বেশ কিছু নিয়ম -এর কথা বলা হয়েছে, যে নিয়মগুলি একজন রাজাকেও মানতে হবে। ম্যাগনাকার্টাতেই প্রথম আইনের ধারণা পাওয়া যায়। অর্থাৎ যেমন কোনোও দেশের আইন সবার ওপরে এমনকি দেশের সর্বোচ্চক্ষমতাসীন ব্যক্তিও সেই আইনের উর্ধে নয়, তেমনই ম্যাগনাকারটাও কিছু নিয়মাবলী যা একজন রাজাকেও মানতে হতো।

এই ম্যাগনাকার্টা দলিলটি প্রথম স্বাক্ষরিত হয় রাজা দ্বিতীয় হেনরির সময় ১২১৫ সালে ইংল্যান্ডে। এই ম্যাগনাকার্টা হল প্রথম কোন দলিল বা কাগজ যা মানুষের স্বার্থে তৈরী করা হয়েছে।

তাই যেকোনো কাগজ বা অর্ডার বা নির্দেশনামা যেখানে এমনকিছু বলা হয়েছে যা মানুষের স্বার্থে বা মানুষের সুবিধার্থেই হয়েছে , তাকেই ম্যাগনাকার্টা বলা হয়।

তাহলে উডের ডেসপ্যাচ কে ম্যাগনাকার্টা বলা হয় কেন? কারণ উডের ডেসপ্যাচই ভারতের ইংরেজ শাসন ইতিহাসে তৈরী প্রথম দলিল যেখানে কোনোও আইন বা নিয়ম মানুষের স্বার্থে করা হয়েছিল বা ভারতবাসীর সার্বিক লাগে হয়েছিল। তাই উডের ডেসপ্যাচ কি ম্যাগনাকার্টা বলা হয়।

উডের ডেসপ্যাচ কি ও উডের ডেসপ্যাচ এর গুরুত্ব কি ? Wood’s Dispatch

উডের ডেসপ্যাচ কি তা জানতে গেলে উডের ডেসপ্যাচ এর গুরুত্ব কি তা বিশদে জানতে হবে।

  • উডের ডেসপ্যাচ থেকেই ভারতবর্ষে আধুনিক শিক্ষার সূচনা। এর আগে সাধারণ মানুষের জন্য কোনো উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা দেশে চালু হয় নি।
  • উডের ডেসপ্যাচ এর মধ্যে দিয়েই প্রথম শিক্ষাব্যবস্থায় স্যাকুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতা লক্ষ্য করা যায়।
  • ইংরেজি শিক্ষার সূচনাও এই উডের ডেসপ্যাচ এর মধ্যে দিয়ে দেশে প্রথম চালু হয়।
  • শিক্ষার যে ক্রমবর্ধমান ধাপ, তাও উডের ডেসপ্যাচ এর মধ্যেই প্রথম লক্ষ্য করা যায়।
  • বর্তমানে আমরা শিক্ষার যে পদ্ধতি ও মান দেখতে পাই তা উডের ডেসপ্যাচ থেকেই প্রথম এসেছিলো।
  • উচ্চশিক্ষার যে গঠন বা প্রাইভেট শিক্ষার যে গঠন আমরা দেখতে পাই তাও উডের ডেসপ্যাচ থেকেই শুরু হয়েছিল।
  • আজ আমরা যে এফিলিয়েটেড স্কুল বা কলেজ দেখতে পাই তা প্রথম উডের ডেসপ্যাচ এর মধ্যে দিয়ে ভারতবর্ষে চালু হয়েছিল।
  • পরীক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশুনার মূল্যায়নের পদ্ধতিও উডের ডেসপ্যাচ এই প্রথম উল্লেখ করা হয়।

তাই আধুনিক শিক্ষার কথা বলতে গেলে উডের ডেসপ্যাচ কে বাদ দিয়ে তা ভাবা সম্ভব নয়। উডের ডেসপ্যাচ এর গুরুত্ব কি তা বলতে গেলে কয়েকটি মাত্র পয়েন্ট এর মাধ্যমে লেখা সম্ভব নয়। এক কোথায় বলতে গেলে উডের ডেসপ্যাচ এর উপরেই আজ আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বুনিয়াদ দাঁড়িয়ে রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here