Home Uncategorized মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান প্রাণী হরমোন।প্রাণী হরমোনের বিশিষ্ট্য, কাজ, পিটুইটারি হরমোন, অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি । animal hormone

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান প্রাণী হরমোন।প্রাণী হরমোনের বিশিষ্ট্য, কাজ, পিটুইটারি হরমোন, অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি । animal hormone

0
মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান প্রাণী হরমোন।প্রাণী হরমোনের বিশিষ্ট্য, কাজ, পিটুইটারি হরমোন, অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি । animal hormone

প্রাণী হরমোন উদ্ভিদের মতো প্রাণীদেহেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে রাসায়নিক সমন্বয় সাধন ও নিয়ন্ত্রণ ঘটায় প্রাণী হরমোন। আমরা দেখে নিই প্রাণী হরমোন কয়েকটি ক্ষেত্রে কীভাবে রাসায়নিক সমন্বয় সাধনে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে।

Animal hormone অর্থাৎ প্রাণী হরমোনের কাজগুলি কি কি | প্রাণীদেহে হরমোনের ভূমিকা । মানবদেহে হরমোনের ভূমিকা । Importance of hormone in animal and human body

  • ✅1.ত্বকের লোম খাড়া হয়ে যাওয়া— গা ছম্ছমে পরিবেশে বা হঠাৎ ভীতিজনক কোনো ঘটনার সম্মুখীন হলে তোমরা দেখেছ সতর্কতাস্বরূপ আমাদের গায়ের লোম খাড়া হয়ে যায়। এ ছাড়া প্রচণ্ড শীতে গায়ের লোম খাড়া হয়ে দেহের তাপ সংরক্ষণে সাহায্য করে। এই কাজগুলি করতে সাহায্য করে ক্যাটেকোলামাইন (ক্যাটেকলবর্গযুক্ত) জাতীয় অ্যাড্রিনালিন নামক হরমোন।
  • ✅2. রক্তে গ্লুকোজের সঠিক মাত্রা বজায় রাখা – তোমরা জান আমাদের রক্তে P.P-শর্করার মান হল 120- 130 mg/100mL এবং Fs-শর্করার মান হল 70mg/100ml। রক্তে গ্লুকোজের এই সঠিক মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে প্রোটিনধর্মী হরমোন ইনসুলিন ও গ্লুকাগন।
  • ✅3. BMR নিয়ন্ত্রণ- তোমরা নবম শ্রেণিতে পড়েছ শ্বসন, হৃদস্পন্দন, রেচন ইত্যাদি বজায় রাখার জন্য যে ক্যালোরির প্রয়োজন তাকেই BMR রূপে প্রকাশ করা হয়। আমাদের দেহে এই কাজটি নিয়ন্ত্রিত হয় আয়োডিনযুক্ত অ্যামাইনোধর্মী হরমোন থাইরক্সিন ও অ্যাড্রিনালিন দ্বারা।
  • ✅4. জনন গ্রন্থির বৃদ্ধি ও ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ – আমাদের দেহের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের জননগ্রন্থিগুলি (মেয়েদের ও ছেলেদের প্রধান জননগ্রন্থি বা গোনাড হল যথাক্রমে ডিম্বাশয় ও শুক্রাশয়) আকার বৃদ্ধি পায় এবং বয়ঃসন্ধিকাল | এপিডিডাইমিস থেকে শুরু করে সমগ্র যৌন জীবনকাল পর্যন্ত এদের সক্রিয়তা বজায় থাকে। জননগ্রন্থিগুলির সেমিনিফেরাস | বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রিত হয় পলিপেপটাইডধর্মী সোমাটোট্রপিক হরমোন (STH) বা গ্রোথ হরমোন নালী (GH) দ্বারা এবং এদের ক্ষরণ (জনন কোশ উৎপাদন ও তার ক্ষরণ) নিয়ন্ত্রিত হয় গ্লাইকোপ্রোটিন জাতীয় গোনাডোট্রপিক হরমোন (GTH) দ্বারা।

তোমরা অষ্টম শ্রেণিতে কয়েকটি প্রাণী হরমোনের নাম জেনেছ। এখন তোমরা আরও কয়েকটি হরমোনের নাম, রাসায়নিক প্রকৃতি ও কাজ সম্বন্ধে জানলে। বুঝতেই পারছ প্রাণী হরমোনগুলি বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যযুক্ত। এবার জেনে নেওয়া যাক প্রাণী হরমোনের বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?

 প্রাণী হরমোনের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো । হরমোনের বৈশিষ্ট্য । what are the characteristics of Animal Hormone

প্রাণী হরমোনের বৈশিষ্ট্যগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে  প্রাণী হরমোনের বৈশিষ্ট্যগুলি (characteristics of animal hormones) আলোচনা করা হল। প্রাণী হরমোনের বৈশিষ্ট্যগুলি মূলতঃ উৎস, রাসায়নিক প্রকৃতি , পরিবহনের পদ্ধতি, কাজ ও পরিণতি ,বাহক ইত্যাদির উপর নির্ভর করে আলোচনা করা হল।

  1. উৎস । প্রাণী হরমোনের উৎস স্থল কোথায়: প্রাণী হরমোনগুলি সাধারণত অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে সংশ্লেষিত ও ক্ষরিত হয়। যে সব গ্রন্থির নালি থাকে না, তাদের ক্ষরণ বস্তু সরাসরি রক্ত বা লসিকায় ব্যাপন পদ্ধতিতে প্রবেশ করে বাহিত হয় তাদের অন্তঃক্ষরা বা অনাল গ্রন্থি বলে। অন্তঃক্ষরা কোশযুক্ত কিছু অঙ্গ, যেমন— শুক্রাশয়, ডিম্বাশয়, পাচননালীর কিছু অংশ ইত্যাদি থেকে হরমোন নিঃসৃত হয়।
  2. রাসায়নিক প্রকৃতি : প্রাণী হরমোনগুলি বিভিন্ন রাসায়নিক গঠনযুক্ত হয়, যেমন— (i) প্রোটিনধর্মী : ইনসুলিন, গ্লুকাগন (ii) পেপটাইডধর্মী: সিক্ৰিটিন, অক্সিটোসিন, (ii) গ্লাইকোপ্রোটিনধর্মী : FSH, TSH, LH (iv) আয়োডিনধর্মী: থাইরক্সিন, (v) স্টেরয়েডধর্মী: টেস্টোস্টেরন, ইস্ট্রোজেন (vi) লিপিডধর্মী: প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন (vii) ক্যাটেকল অ্যামাইনধর্মী : অ্যাড্রেনালিন, নর-অ্যাড্রেনালিন।
  3. ✍পরিবহণের পদ্ধতি : অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে হরমোন ব্যাপন পদ্ধতিতে নিঃসৃত হওয়ার পর অন্তক্ষরা গ্রন্থিকে বেষ্টন করে থাকা রক্তজালক মধ্যস্থ রক্তে মিশ্রিত হয়। তারপর জলে দ্রবণীয় হরমোন প্রোটিন হরমোন ও ক্যাটেকোলামাইনস (যথা- অ্যাড্রিনালিন, নর-অ্যাড্রিনালিন) সরাসরি সংবহন তন্ত্রে মাধ্যমে এবং স্টেরয়েড ও থাইরয়েড হরমোনগুলি প্লাজমা গ্লাইকোপ্রোটিন বাহকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সংবহণ তন্ত্রের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।
  4. ✍কাজ ও পরিনতি : হরমোন রাসায়নিক অণু হিসেবে টার্গেট কোশ, কলা বা অঙ্গের উপর কাজ করে বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্রের মধ্যে রাসায়নিক সমন্বয় সাধন করে। গ্রাহক হরমোন টার্গেট কোশের গ্রাহক প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সিগন্যাল ট্রান্সডাকশন পথকে সক্রিয় করে। এর ফলে কোশে নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া সংঘটিত হয়। কাজের পর হরমোন উৎসেচক সংশ্লেষ হরমোনের ক্রিয়া পদ্ধতি অ্যাডিনাইল প্রাণী হরমোনগুলি বিনষ্ট হয় বা অন্য যৌগে পরিণত হয় এবং মূত্রের মাধ্যমে দ্রুত বিপাক ক্রিয়ার হার বৃদ্ধি দেহ থেকে নির্গত হয়ে যায়।
  5. ✍বাহক রূপে হরমোন : হরমোন টার্গেট কোশের কোশপদাস্থিত বাহক প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে হরমোন-গ্রাহক যৌগ গঠন করে। হরমোন-গ্রাহক যৌগ সাইক্লেজ উৎসেচককে সক্রিয় করে সাইক্লিক অ্যাডিনোসিন মনোফসফেট (cAMP) গঠন করে। CAMP কোশস্থিত বিভিন প্রোটিন কাইনেজকে সক্রিয় করে কোশের বিপাক কাজগুলি নিয়ন্ত্রণ করে। এইক্ষেত্রে হরমোন প্রথম দূত (first messenger) ও CAMP দ্বিতীয় দূত (Second messenger) হিসেবে কাজ করে। বিভিন স্টেরয়েড হরমোন টার্গেট কোশের মধ্যে প্রবিষ্ট নির্দিষ্ট জিনকে সক্রিয় করে কোশের বিপাক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। 
  6. ✍নিয়ন্ত্রকরূপে হরমোন : দেহের অভ্যন্তরীণ পরিবেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বা হোমিওস্ট্যাসিস (homoestasis)-এ হরমোন হাইপোথ্যালামাস TAM সাহায্য করে এবং কোনো একটি হরমোনের কাজ যখন অপর কোনো হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে ফিড ব্যাক নিয়ন্ত্রণ (feed back Control) বলে। এটি দুভাবে সম্পন্ন হতে পারে। যথা- (i) ধনাত্মক ফিডব্যাক নিয়ন্ত্রণ— যেমন রক্তে থাইরক্সিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে থাইরক্সিন হাইপোথ্যালামাসকে সক্রিয় করে TRH-এর ক্ষরণ বাড়ায় যা পিটুইটারি থেকে TSH ক্ষরণ বাড়ায়। তারপর TSH থাইরয়েড গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে থাইরক্সিন ক্ষরণে সাহায্য করে। (ii) ঋণাত্মক ফিড ব্যাক নিয়ন্ত্রণ – যেমন রক্তে থাইরক্সিনের পরিমাণ বেড়ে গেলে থাইরক্সিন TRH ও TSH ক্ষরণে বাধা দেয়। ফলে থাইরক্সিন ক্ষরণ নিয়ন্ত্রিত হয়।

প্রাণী হরমোন কাকে বলে | মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী হরমোনগুলি কি কি তাদের কাজ কি । Animal hormones and their source and functions | endocrine glands and secreted hormones | অন্তক্ষরা গ্রন্থী ও টা থেকে ক্ষরিত হরমোন

হাইপোথ্যালামাস (Hypothalamus)

অবস্থান: অগ্রমস্তিষ্কের ডায়েনসেফালন অংশে অবস্থিত তৃতীয় মস্তিষ্ক নিলয়ের নিচে হাইপোথ্যালামাস অবস্থিত। এরা কেন্দ্রীয় শ্বেতবস্তুর ভিতর ধূসর বস্তুরূপে দ্বীপের মতো কতকগুলি নিউক্লিয়াস গঠন করে। হাইপোথ্যালামাসের মধ্যে কিছু নিউরো সিক্রেটরি কোশ থাকে। নিঃসৃত হরমোন ও তাদের কাজ :

  • 1. হাইপোথ্যালামাসের ডরসাল মেডিয়াল, ভেন্ট্রাল মেডিয়াল এবং ইনফান্ডিবুলার নিউক্লিয়াই-এর নিউরোসিক্রেটরি কোশ থেকে নিঃসৃত বিভিন্ন রিলিজিং ইনহিবিটিং হরমোন অগ্র পিটুইটারি থেকে ক্ষরিত বিভিন্ন ট্রপিক হরমোনের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
  • 2. হাইপোথ্যালামাসের সুপ্রাঅপটিক ও প্যারাভেন্ট্রিকুলার নিউক্লিয়াসের নিউরোসিক্রেটরি কোশ থেকে যথাক্রমে ভেসোপ্রেসিন বা ADH ও অক্সিটোসিন উৎপন্ন হয় যা হাইপোফাইসিয়াল পোর্টাল তন্ত্রের মাধ্যমে পশ্চাৎ পিটুইটারিতে এসে জমা হয় এবং সেখান থেকে দেহের অন্যান্য অংশে পরিবাহিত হয়। অক্সিটোসিন স্তনগ্রন্থির অনৈচ্ছিক পেশির সংকোচন দ্বারা দুগ্ধ ক্ষরণে, জরায়ুর পেশি সংকোচন দ্বারা সন্তান প্রসবে ও সঙ্গমকালে বীর্যকে যোনি অংশ থেকে জরায়ুর দিকে চলাচলে সাহায্য করে।

পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary gland) কোথায় অবস্থিত , পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary gland)কাজ কি , পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary gland) নিঃসৃত হরমোনগুলি কি কি

পিটুইটারি গ্রন্থি কোথায় অবস্থিত —হাইপোথ্যালামাসের নীচে ইনফান্ডিবুলাম নামক বৃত্ত দ্বারা সংযুক্ত অবস্থায় করোটির স্ফেনয়েড অস্থির সেলা টারসিকা প্রকোষ্ঠে সুরক্ষিত অবস্থায় থাকে। পিটুইটারী গ্রন্থি হাইপোথ্যালামাসের নিচে যুক্ত থাকে, তাই একে হাইপোফাইসিস বলে। পিটুইটারি গ্রন্থির দুটি খণ্ড, যথা—অগ্রখণ্ড বা অ্যাডিনোহাইপোফাইসিস এবং পশ্চাৎ খণ্ড বা নিউরো হাইপোফাইসিস।

পিটুইটারি গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোন ও তাদের কাজ :

অ্যাডিনোহাইপোফাইসিস নিঃসৃত হরমোনগুলি নিচে আলোচনা করা হল –

1. অ্যড্রিনোকটিকোট্রপিক হরমোন বা ACTH : (i) অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির কর্টেক্স অঞ্চলের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। (ii) অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির কর্টেক্স অঞ্চলের অন্তঃক্ষরা কোশপুঞ্জ থেকে গ্লুকোকটিকয়েড ও সেক্স কটিকয়েড হরমোন সংশ্লেষ ও তার ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

2. গ্রোথ হরমোন (GH) বা সোমাটোট্রপিক হরমোন (STH) : (i) অস্থি ও পেশির বৃদ্ধি, শর্করা ও ফ্যাটের বিপাক এবং নাইট্রোজেনের উপচিতি মূলক বিপাককে প্রভাবিত করে। (ii) সরেখ পেশি ও হৃদপেশিতে গ্লাইকোজেন সঞ্চয়ে সাহায্য করে।

(3) থাইরয়েড স্টিমিউলেটিং হরমোন বা TSH – (i) থাইরয়েড গ্রন্থির বৃদ্ধি ও থাইরয়েড কলার আয়োডিন গ্রহণকে নিয়ন্ত্রণ করে। (ii) থাইরয়েড গ্রন্থির থাইরক্সিন (Ta), ট্রাইআয়োডোথাইরোনিন (T3) ও থাইরোক্যালসিটোনিন সংশ্লেষ নিয়ন্ত্রণ করে। 

(4) গোনাডোট্রপিক হরমোন বা GTH – এই হরমোনটি দুধরনের হয়। যথা- ফলিকল স্টিমিউলেটিং হরমোন বা FSH – (1) ডিম্বাশয়ে ডিম্বথলির বৃদ্ধি, ইস্ট্রোজেন ক্ষরণ ও ডিম্ব নিঃসরণে সাহায্য করে। (ii) শুক্রাশয়ে টেস্টোস্টেরন সংশ্লেষ ও তার ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ এবং শুক্রাণু উৎপাদনকে ত্বরান্বিত করে। ইন্টারস্টিসিয়াল সেল স্টিমিউলেটিং হরমোন (ICSH) ও লিউটিনাইজিং হরমোন (LH) – (i) ICSH শুক্রাশয়ে টেস্টোস্টেরন ক্ষরণে ও শুক্রাণু উৎপাদনে সাহায্য করে। (ii) LH ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু

(5) লিউটিওট্রপিক হরমোন (LTH) বা প্রোল্যাকটিন (i) স্তন গ্রন্থির বৃদ্ধি ও ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। (ii)’ কর্পাস লুটিয়ামের কার্যকালকে দীর্ঘস্থায়ী করে ও প্রোজেস্টেরন ক্ষরণে সাহায্য করে। নিউরোহাইপোফাইসিস নিঃসৃত হরমোন : 1. অ্যান্টিডাইইউরেটিক হরমোন (ADH) বা ভেসোপ্রেসিন— (i) উপধমনী ও রক্তজালকের উপর ক্রিয়া করে সংকোচন ঘটায় এবং রক্ত চাপ বৃদ্ধি করে। এই কারণে একে ভেসোপ্রেসিন বলে। (ii) নেফ্রনের দূরবর্তী সংবর্ত নালিকা থেকে জলের নিষ্ক্রিয় পুনঃশোষণের মাধ্যমে দেহ থেকে অতিরিক্ত জল নির্গমনে ডাইইউরেসিস-এ সাহায্য করে। এই কারণে একে ADH বলে। –

থাইরয়েড গ্রন্থি (Thyroid Gland) : থাইরয়েড গ্রন্থি (Thyroid Gland) কোথায় অবস্থিত , থাইরয়েড গ্রন্থি (Thyroid Gland) কাজ কি , থাইরয়েড গ্রন্থি (Thyroid Gland) নিঃসৃত হরমোনগুলি কি কি

অবস্থান – মানুষের গ্রীবা অঞ্চলের সামনের দিকে স্বরযন্ত্রের সামান্য নীচে শ্বাসনালীর দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ ট্রাকিয়াল রিং-এর দুপাশে থাইরয়েড গ্রন্থির দুটি পার্শ্ব খণ্ড অবস্থিত। দুটি পার্শ্বখণ্ড ইস্থমাস অংশ দ্বারা যুক্ত থাকে। নিঃসৃত হরমোন ও তার কাজ :

থাইরক্সিন বা টেট্রাআয়োডোথাইরোনিন বা T4 (চারটি আয়োডিন যুক্ত)।

(i) কোশে অক্সিজেন গ্রহণের মাত্রা বাড়িয়ে BMR বৃদ্ধি করে। সেজন্য একে ক্যালোরিজেনিক হরমোন বলে।

(ii) হৃদস্পন্দনের হার বৃদ্ধি করে।

(iii) দেহের বৃদ্ধি ও পরিস্ফুটনে সাহায্য করে বলে একে অ্যানাবলিক হরমোন বলে।

(iv) ক্ষুদ্রান্ত্রে গ্লুকোজ শোষণে, RBC পূর্ণতা প্রাপ্তিতে ও লিপিডের অপচিতমূলক বিপাক নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

(v) অস্থি ও মস্তিষ্কের বৃদ্ধি ও পরিস্ফুরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

4. অগ্ন্যাশয়ের অন্তঃক্ষরা অংশ (Endocrine Pancreas) । অগ্ন্যাশয় নিঃসৃত হরমোনগুলি কি কি ও তাদের কাজ কি কি ?

অবস্থান : অগ্ন্যাশয়ের পাচক রস ক্ষরণকারী অ্যাসিনাসগুলির অন্তবর্তী স্থানে অন্তঃক্ষরা কোশগুলি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপপুঞ্জের মতো বিক্ষিপ্তভাবে ছাড়ানো থাকে। অগ্ন্যাশয় গ্রন্থির এই অন্তঃক্ষরা অঞ্চল প্রথম পর্যবেক্ষণ করেন বিজ্ঞানী ল্যাঙ্গারহ্যান্স। সেজন্য তাঁর নাম অনুসারে ওই অন্তঃক্ষরা অঞ্চলগুলিকে ল্যাঙ্গারহ্যান্স-এর দ্বীপপুঞ্জ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here